শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এখন দুর্নীতির নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছে। জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন এবং প্রধান সহকারী (বড়বাবু) মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে চলা ‘ঘুষ সিন্ডিকেটে’ জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রতিটি দলিলে নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে ফাইল ছাড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও এই কার্যালয়ে থামছে না ঘুষের এই প্রকাশ্য মহোৎসব।
সূত্র জানায়, বড়বাবু জাকির হোসেনের মাধ্যমেই মূলত সকল অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা-গ্রহীতা সাজানো এবং পর্চা জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দলিলের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের নামে নির্ধারিত হারে ‘স্পিড মানি’ আদায় করা হয়। যারা এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন, তাদের নানা অজুহাতে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। এমনকি অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বড় অংশই এই অনৈতিক বাণিজ্যের সুবিধাভোগী।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন ও জাকিরের এই দাপটের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ। ফলে বারবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। বরং অভিযোগকারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। শরীয়তপুরের সাধারণ মানুষ এখন এই ‘দুর্নীতির অভিশাপ’ থেকে মুক্তি পেতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
Leave a Reply